উন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য

উন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “এনসিটিবি মাধ্যমিক ৯ম ও ১০ম শ্রেণির অর্থনীতি” এর  “বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ” নবম অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত।

 

উন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য

 

উন্নত দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ –

১. ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ : উন্নত দেশ সাধারণত পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ । কখনো কখনো এসব দেশে ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা থাকলেও সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার ও সংরক্ষণ হয়। উন্নত দেশ যেমন, আমেরিকা, জাপান, ইউরোপের দেশগুলো ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সুষ্ঠু সংরক্ষণ করে আজ উন্নত বিশ্বের নেতৃত্ব দান করছে ।

২. মূলধন : উন্নত দেশে মূলধনের যোগান পর্যাপ্ত । অর্থনীতিতে সঞ্চয় বৃদ্ধির দ্বারা মূলধন গঠন করা হয় ।

৩. দক্ষ জনশক্তি : যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি একান্ত প্রয়োজন । কোনো দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ইত্যাদি পর্যাপ্ত থাকলেও যদি দক্ষ জনশক্তি না থাকে তাহলে সে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয় না। উন্নত দেশ দক্ষ জনশক্তি গঠনে বিশেষ নজর রাখে । উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয় ।

৪. উচ্চগড় আয়ুস্কাল : উন্নত দেশের জনগণের গড় আয়ুস্কাল সাধারণত বেশি হয় । উন্নত স্বাস্থ্য সুবিধার কারণে তাদের গড় আয়ুস্কাল বেশি হয়ে থাকে ।

৫. কারিগরি জ্ঞান : বর্তমানে উন্নত দেশে শ্রমিকদের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ বৃদ্ধির মূলে রয়েছে কারিগরি জ্ঞানের উন্নতি । যে দেশ কারিগরি জ্ঞানে যত বেশি উন্নত, সে দেশের অর্থনীতি তত বেশি সমৃদ্ধ । উন্নত দেশে মানুষ উন্নত কারিগরি জ্ঞানের দ্বারা প্রকৃতিকে বশে এনেছে এবং এই প্রকৃতির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করছে ।

৬. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা : রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত । যে রাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই, সে রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নত দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিদ্যমান থাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয় । অর্থাৎ সে সব দেশে সরকারের পরিবর্তন হলেও অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ও সুশাসন অব্যাহত থাকে ।

৭. ভৌত অবকাঠামো তথা উন্নত পরিবহনব্যবস্থা : যেখানে ভৌত অবকাঠামো ও পরিবহনব্যবস্থা যত বেশি উন্নত সেখানে তত বেশি উৎপাদন ও উন্নয়ন হয়। ভৌত অবকাঠামো তথা পরিবহনব্যবস্থা উন্নত হলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায় এবং বিনিয়োগ বাড়ে । ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ।

 

 

অনুন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Least Developed Countries)

এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশ অনুন্নত। পৃথিবীর বেশির ভাগ লোক এসব অনুন্নত দেশে বসবাস করে।

 

উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Developing Countries)

উন্নয়নশীল দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য –

১. কৃষিনির্ভর অর্থনীতি : দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল । শ্রমশক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষিতে নিয়োজিত । কৃষিক্ষেত্রে পুরনো আমলের জীবন নির্বাহী ক্ষুদ্র খামারে চাষাবাদ হয়, তবে এখানেও কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কৃষিতে বন্যা, খরা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব থাকে ।

২ . মাথাপিছ আয় : উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশের মাথাপিছু আয় কম কিন্তু অনুন্নত দেশের তুলনায় বেশি। ফলে জীবনযাত্রার মান তেমন উন্নত নয় ।

৩. প্রাকৃতিক সম্পদের অপূর্ণ ব্যবহার : অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তার পরিপূর্ণ ব্যবহার হয় না ।

৪. মূলধনের স্বল্পতা : উন্নয়নশীল দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার কম । কাজেই সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয় । কম সঞ্চয় মূলধন গঠনের পথে অন্তরায় ।

৫. প্রাথমিক পণ্য উৎপাদনকারী দেশ : উন্নয়নশীল দেশ প্রধানত প্রাথমিক পণ্য উৎপাদন করে এবং উৎপাদন-ব্যবস্থায় শ্রমনিবিড় উৎপাদন কৌশল ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিক পণ্য বলতে শিল্পের কাঁচামাল যেমন, পাট, চামড়া ইত্যাদি বোঝায় ।

 

আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

৬. শিল্পের বিকাশ : উন্নয়নশীল দেশসমূহে শিল্প প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে। তবে কোথাও কোথাও রপ্তানীমুখী শ্রমঘন শিল্পের দ্রুত বিকাশ পরিলক্ষিত হয়।

৭. বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি : উন্নয়নশীল দেশে প্রতিবছর রপ্তানির মাধ্যমে যে পরিমাণ আয় আসে, তার চেয়ে অনেক বেশি আমদানির মাধ্যমে ব্যয় হয়। ফলে এ দেশগুলোকে প্রতি বছর বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয় ।

৮. উদ্যোক্তার অভাব : উন্নয়নশীল দেশে পণ্যসামগ্রী বেশির ভাগই কৃষি থেকে প্রাপ্ত । এসব পণ্যের মূল্যের উত্থান-পতন হয় বেশি । পণ্যের মূল্য উত্থান-পতন হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ । ফলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তার অভাবে উন্নয়ন ব্যাহত হয় ।

৯. অর্থনৈতিক অবকাঠামো দুর্বল : উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো যেমন, যোগাযোগ ও পরিবহন, বিদ্যুৎ, ব্যাংক, বিমা প্রভৃতি প্রয়োজনের তুলনায় কম ।

১০. বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা : উন্নয়নশীল দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনেকাংশে বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল।

 

উন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য

 

আরও পড়ূনঃ

Leave a Comment